নারীই যখন নারীর শত্রু!

0

নারীই যখন নারীর শত্রু!

একটি প্রবাদ আছে- ‘কাক কখনো কাকের মাংস খায় না’ কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে এই প্রবাদ ভুল। মানুষ শুধু একটু ফাঁক খোঁজে কখন কীভাবে কার ক্ষতি করা যায়! তবে নারীদের মধ্যে এই বিষয়টি আজকাল একটু বেশিই পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই যেমন নারায়ণগঞ্জের একটি ঘটনা। চাষাড়া এলাকার বৃষ্টি (ছদ্মনাম) এমনি এক ঘটনার শিকার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কোনো এক অজ্ঞাত মেয়ে বৃষ্টির ফেসবুক প্রোফাইল থেকে একটি ছবি নিয়ে নিজের ছবি বলে চালাচ্ছিলেন এবং নিশাত আরা মুস্কান নামে একটি প্রোফাইল আইডি পরিচালনা করছিলেন। সেই প্রোফাইল আইডি দিয়ে তিনি কিছু ‘এডল্ট গ্রুপ’এ যুক্ত হয়েছিলেন এবং সেখানে নিজের মুখ আড়াল করে অন্যান্য সদস্যদের সাথে অশালীন কার্যকলাপে যুক্ত হচ্ছিলেন। ব্যাপারটা এমন যেহেতু তার মুখ ঢাকা সেহেতু ওই সকল সদস্য প্রোফাইলে বৃষ্টির ছবি দেখে মনে করবে বৃষ্টিই ওই মেয়ে এবং বাস্তবেও কখনো বৃষ্টির সাথে দেখা হলে তাকেও একই চরিত্রের মনে করে নোংরামি করতে চাইবে। তো এভাবে চলছিল। এমতাবস্থায় জনৈক সাদ্দাম (ছদ্মনাম) নামের এক আইডি কোনোভাবে বৃষ্টির আসল আইডির সন্ধান পায় এবং তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে বৃষ্টি আকাশ থেকে পড়ার মতো অবস্থা হয়। বৃষ্টি এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে কী করবে বুঝতে না পেরে যোগাযোগ করে ফেসবুক ভিত্তিক সাইবার ক্রাইম নিয়ে কাজ করা সংগঠন- ACCS এর সাথে।

তাদের প্রাথমিক খোঁজ-খবরে সন্ধান বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্যের। কলেজ জীবনে বৃষ্টিকে নিয়মিত বিরক্ত করা এক ছেলে যাকে কিনা সে একবার শাসিয়েছিল সেও এই ঘটনার সাথে জড়িত। এ বিষয়ে সেই ছেলের সাথে কথা বলতে চাইলে সে উত্তেজিত হয়ে ফোন রেখে দেয়। তারপর থেকে তার ফোন বন্ধ এবং আশ্চর্যজনক ভাবে নিশাত আরা মুস্কান আইডিটিও ডিয়েক্টিভ! বৃষ্টির কাছে তার পদক্ষেপ জানতে চাইলে সে বলে সে আপাতত আইনি আশ্রয় নিতে চায় এবং ‘অজ্ঞাত’ নিশাত আরা মুস্কান এবং কলেজের সেই ছেলেকে আসামি করে সাইবার ক্রাইম এবং পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করতে ইচ্ছুক।নারীদের নিরাপত্তা আজ আসলে কোথায়? রাস্তাঘাটের মতো ভার্চুয়ালিও তো তারা অনিরাপদ। সরকারসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত নারীদের অনলাইন নিরাপত্তায় আইন আরও জোরদার করা।

Leave A Reply

Your email address will not be published.